Read more

 

‘এখন গাজায় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কী, সেটি আমার বুঝে আসছে না। তবে আমার বিশ্বাস, এই অভিযানের বিশেষ কোনো ফায়দা নেই। কেননা, হামাস কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তাদের শর্ত মানা না হলে তারা কখনোই সাদা পতাকা উত্তোলন করবে না।’

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসনকে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন ইসরাইলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দেশটির বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের আলোচনাতে এমন মত দিচ্ছেন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সেনাবাহিনীর মাঝে গাজা ইস্যুতে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এতে রাজনৈতিক পক্ষ যেকোনো মূল্য গাজা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিন্তু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হামাসের সাথে একটি চুক্তি করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে ইসরাইলি রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর প্রশাসনকে দেশকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারাই এখন দেশের জন্য ক্ষতির কারণ।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান ইয়াল হাওলানা বলেন, নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধকে আরো তীব্রতর করতে চাচ্ছে। কিন্তু তার এই চাহিদা ক্ষতিকর। কারণ, হামাসের পক্ষ থেকে এখন যে সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তার এই চাহিদার কারণে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হামাস এখন অল্প হলেও কিছু বন্দীকে মুক্তি দিতে চাচ্ছে। কিন্তু নেতানিয়াহু যুদ্ধকে তীব্র করে তুললে ওই সম্ভাবনাও দূর হয়ে যাবে।

তিনি চ্যানেল ১৩-কে বলেন, এখন গাজায় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কী, সেটি আমার বুঝে আসছে না। তবে আমার বিশ্বাস, এই অভিযানের বিশেষ কোনো ফায়দা নেই। কেননা, হামাস কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তাদের শর্ত মানা না হলে তারা কখনোই সাদা পতাকা উত্তোলন করবে না।

এদিকে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান এবং সাবেক ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ ইয়ায়ের জাওলানা বলেন, এখন গাজা সিটি দখলের জন্য অভিযানের কোনোই দরকার নেই। কারণ, এখন ইসরাইলকে বন্দী মুক্তি করার বিষয়টিই অধিক প্রধান্য দেয়া দরকার এবং যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করা প্রয়োজন। সেজন্য বুদ্ধির কাজ হবে- গাজায় হামাসের বিকল্প কোনো প্রশাসন তৈরি করার।

ইসরাইলের সাবেক ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাতান ভিলনাই বলেন, এখন নেতানিয়াহুর প্রশাসনই ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। এই প্রশাসনের যেসব মন্ত্রীরা রয়েছে, ইসরাইলের ইতিহাসে এরচেয়ে বেশি উগ্র মন্ত্রী আর কখনো ছিল না। তারা গোটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং মাত্র ১০ শতাংশ ইসরাইলির প্রতিনিধিত্ব করে।